পিবিআই এর বিশেষ অভিযানে মুক্তিপণ আদায় চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার।
নরসিংদী জেলা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর বিশেষ অভিযানে
নরসিংদী শিবপুরে যাত্রীবেশী প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ করে, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপন আদায় চক্রের তিনজন সদস্য গ্রেফতার।
এ সময় অ’পহ’রণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেনঃ ১। মো. ওমর ফারুক (৩৪),২। নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান (৩০) এবং ৩। মো. সাইফুল ইসলাম ফকির (৩২)।
পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কৌশলে যাত্রী অ’পহ’রণ করে মু’ক্তিপ’ণ আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিবপুর উপজেলার চৈতন্য বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মামুনুর রশীদ (৪২)। এ সময় একটি প্রাইভেটকারের চালক তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড হয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে উঠতে প্রস্তাব দেন। বাসের সমপরিমাণ ভাড়া নেওয়ার কথা জানালে মামুনুর রশীদ গাড়িতে ওঠেন।
পরে গাড়িতে আগে থেকে থাকা একজন এবং আরও দুই ব্যক্তি যাত্রীবেশে গাড়িতে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা মামুনুর রশীদকে ভ’য়ভী’তি দেখিয়ে জি’ম্মি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, লোহার র’ড ও পাইপ দিয়ে ভ’য় দেখিয়ে তার চো’খ বেঁ’ধে মা’রধ’র করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয় এবং তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাত হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, জি’ম্মি অবস্থায় মামুনুর রশীদের বিকাশ, নগদ ও রকেট হিসাবে থাকা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চো’খ বাঁ’ধা অবস্থায় ফেলে যায় অপহরণকা’রীরা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পিবিআই জানায়, মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও ২৭ আগস্ট পিবিআই নরসিংদী স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। এর পরদিন ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান চালায় পিবিআইয়ের বিশেষ দল।
পিবিআই জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আব্বাস উদ্দিন।







